আমাদের সমাজে প্রতিনিয়ত কেউ না কেউ অন্যের কাছ থেকে হুমকি পাচ্ছে, এই হুমকি আঘাতের হুমকি, মেরে ফেলার হুমকি বা অন্য যে কোন ধরনের হুমকি, জোরপূর্বক কাউকে কোন কিছু করতে বাধ্য করার হুমকি বা কাউকে কোন কিছু নিষেধ করার হুমকি। এই যে কোনো ধরনের হুমকি আইনের চোখে একটি অপরাধ ।
আজকের সমাজে হত্যার হুমকি কোনো সাধারণ বিষয় নয়, এটি এক ভয়ঙ্কর বাস্তবতা। হত্যার হুমকি দিতে হলে কিছু ভাবতে হয় না, কিন্তু এর পরিণতি সমাজে কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা কেউই বুঝতে পারে না। এটি শুধু অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে বাধ্য করে না, বরং একটি সুষ্ঠু সমাজের কাঠামোকে ভেঙে দেয়। হত্যার হুমকি শুধু মানসিক নির্যাতন নয়, এটি সরাসরি মানবিক মর্যাদা, শান্তি এবং নিরাপত্তার ওপর আঘাত।
প্রসঙ্গটি এসেছে বর্তমানে বাংলাদেশে হিন্দুদের সন্ত্রাসী সংগঠন ইস্কনকে নিষিদ্ধের প্রতিবাদে। আমরা মূল ঘটনায় যাওয়ার কিছু তথ্য জেনে আসি। যখন একজন ব্যাক্তি বা গোষ্ঠী অন্য কোনো ব্যক্তিকে হত্যার হুমকি দেয় তখন সেটা আইনের লঙ্ঘন। বাংলাদেশের পেনাল কোডে হত্যার হুমকি দেওয়ার জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। এটি শুধু সমাজকে শৃঙ্খলাবদ্ধ রাখার জন্য নয়, বরং জনগণকে সতর্ক করার জন্যও জরুরি। দন্ডবিধি 506 ধারা অনুসারে যদি কোন ব্যক্তি অন্য কোন ব্যক্তিকে এরকম হুমকি প্রদান করে তাহলে সেই ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড ভোগ করবে।
যদি কোন ব্যক্তি ওপর কোনো ব্যক্তিকে মারাত্মক আঘাত কিংবা মৃত্যুর হুমকি দেয় অথবা অগ্নি সংযোগে কোন সম্পত্তি ধ্বংস করার কিংবা মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় কোন অপরাধ অনুষ্ঠানের অথবা সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধ অনুষ্ঠানের অথবা কোন স্ত্রীলোকের সতীত্ব নষ্ট হয়েছে বলে দুর্নাম আরোপের হুমকি হয়, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত দণ্ডিত হতে পারে।
এইসব আইনের প্রয়োগ আমাদের দেশে লক্ষণীয়। যখন কোনো ব্যাক্তি এমন জঘন্যতম কাজ করে তখন বাংলাদেশ পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে তৎপর থাকে বা করে নিয়ে যায়। বিশেষ করে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে, বা সনাতন ধর্মাবলম্বী বা অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের ক্ষেত্রে বেশি পরিলক্ষিত হয়। কিন্তু এই বিষয় টি যখন কোনো ইসলামিক স্কলার বা ব্যাক্তির ক্ষেত্রে ঘটে তখন কোনো পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা পরিলক্ষিত হয় না বরং তারা না জানার ভান করে থাকে। কিন্তু কেন এমন পক্ষপাতিত্বমূলক আচারণ করা হয় তা বাংলাদেশ সরকার বা তার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীই ভালো জানে। পাশাপাশি বিচারের ক্ষেত্রেও ধীরগতির ভাব পরিস্ফুটিত দৃশ্যমান। যদি এহেন কাজ চলতে থাকে দেখা যাবে দেশে শান্তি শৃঙ্খলার ব্যাপক অবনতি ঘটবে।
উদাহরণ স্বরূপ বলা যাক,
গত অক্টোবর মাসে যখন দেশ হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ইস্কন নিষিদ্ধকরণে উত্তাল তখন এই সন্ত্রাসী সংগঠনের সমর্থক থেকে শুরু করে পরিচালনা পর্ষদ পর্যন্ত সবাই আলেম উলামা এবং যারা এর বিরুদ্ধে সোচ্চার তাদেরকে সরাসরি হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে। কিন্তু বাংলাদেশ সর এবং এর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরব ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে। কিন্তু এখন প্রশ্ন হলো? কেন তারা ইস্কনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে না এবং যারা হুমকি দিচ্ছে তাদের গ্রেফতার করছে না। কি তাদের ভয়?

আমরা সরকারকে জোরালো কণ্ঠে বলতে চাই এর বিরুদ্ধে সঠিক পদক্ষেপ নিন নইলে দেশের শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। পক্ষপাতিত্ব পরিহার করে ন্যায়ের দিকে অগ্রসর হোন।
এর জন্য আমাদেরও কিছু করণীয়- সমাজে সচেতনতা এবং প্রতিরোধ:
একটি সমাজে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে হলে, হত্যার হুমকির বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে। শুধু আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলিই নয়, সমাজের প্রতিটি নাগরিককেই এর বিরুদ্ধে সচেতন হতে হবে। যেকোনো হত্যার হুমকি যদি দেখা যায়, তাৎক্ষণিকভাবে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।
একইসঙ্গে, গণমাধ্যমেরও ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। জনগণকে হত্যা হুমকির শাস্তি এবং আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে সঠিকভাবে জানালে, তারা এসব অপরাধ থেকে বিরত থাকবে। এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
হত্যার হুমকি কোনো সামান্য বিষয় নয়, এটি একটি গুরুতর অপরাধ এবং এর বিরুদ্ধে ত্বরিত আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। শুধু আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত করার মাধ্যমে নয়, আমাদের সকলের সচেতনতার মাধ্যমে এই ধরনের অপরাধগুলো প্রতিরোধ করা সম্ভব। সমাজে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে আমাদের একযোগে কাজ করা প্রয়োজন।


0 Comments