সমাজসেবা অধিদপ্তর–কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন এমওইউ: সরকারি শিশু পরিবারের দায়িত্ব নিয়ে বিতর্ক


কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের মতো বিতর্কিত একটি প্রতিষ্ঠানকে সরকারি শিশু পরিবারের এতিম শিশুদের মানোন্নয়নের দায়িত্ব দিতে যাচ্ছে সমাজসেবা অধিদপ্তর। এ জন্য দুই পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হচ্ছে। আজ সকালে অনুষ্ঠানটি হওয়ার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে দুপুরে আয়োজন করা হয়। তবে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অনেকেই এই সমঝোতা স্মারক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, বিতর্কিত প্রতিষ্ঠানটিকে এতিম শিশুদের দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ।এই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শহীদ আল বোখারী, যাঁকে গুরুজী ও মহাজাতক বলে সম্বোধন করা হয়, তিনি বিভিন্ন সময়ে ইসলাম ধর্মের অপব্যাখ্যা করেন। তাঁর সেই বিকৃত বক্তব্য ইউটিউবে সামান্য খুঁজলেই পাওয়া যায়। অবহেলায় বেড়ে ওঠা এতিম শিশুদের এমন একজন ব্যক্তির পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কি কোনো যাচাই-বাছাই করেনি?উল্লেখ্য, বান্দরবানের লামার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রায় ২৫০০ একর বিস্তীর্ণ এলাকায় বছরের পর বছর এই শহীদ আল বোখারী নির্বিঘ্নে প্রশ্নবিদ্ধ কার্যক্রম পরিচালনা করে চলেছেন। তাঁর এসব কার্যক্রম কারা নিয়ন্ত্রণ করে, ১২০০ কর্মীর মাধ্যমে সেখানে কিসের প্রশিক্ষণ চলে—এসব নিয়ে তেমন কোনো তথ্যও পাওয়া যায় না। তাঁর ওই লামা সেন্টারে সাধারণ নাগরিক তো বটেই, নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যদেরও প্রবেশের অনুমতি নিতে হয়।জেনে অবাক হবেন, কুচক্রী ছোটন গ্যাং-এর প্রভাব কাজে লাগিয়ে বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। যার মাধ্যমে ‘বৈজ্ঞানিক লাইফস্টাইল ডেভেলপমেন্ট এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা’ কার্যক্রম বাস্তবায়নের নামে দেশের সব মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এক দিনের প্রশিক্ষণ কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের নিজস্ব ভেন্যুতে বিনামূল্যে চালানোর চেষ্টা করা হয়েছিল (কমেন্টে দেখুন)। এর উদ্দেশ্য ছিল কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের তৈরি ‘বৈজ্ঞানিক লাইফস্টাইল ডেভেলপমেন্ট এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম’ সংক্রান্ত ম্যানুয়ালের ভিত্তিতে দেশের প্রায় ২০ হাজারের বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষক ও শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া। পরীক্ষামূলক কর্মসূচি হিসেবে ১২৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। সে সময় দাবি করা হয়েছিল, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে এ ধরনের পদক্ষেপ জরুরি।তবে বিএনপি সরকারের শুরুর দিকে এটি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সরকার আর অগ্রসর হয়নি এবং সম্পূর্ণ প্রকল্পটি বাতিল করে দেওয়া হয়। এখন উদ্বেগের বিষয় হলো, কাদের প্ররোচনায় বর্তমান নির্বাচিত সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হলো? এই পুরো আয়োজন অবশ্যই খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

Comments

comments


Like it? Share with your friends!

0 Comments