মুক্ত বিনোদনের অন্ধকার দিক: নেটফ্লিক্সের বিরুদ্ধে ‘ট্রান্সজেন্ডার মতাদর্শ’ প্রচারের অভিযোগ এবং শিশুদের ভবিষ্যৎ ঝুঁকি


বিশ্বখ্যাত ওটিটি (OTT) প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সের (Netflix) বিরুদ্ধে শিশুদের জন্য নির্মিত কনটেন্টে “এলজিবিটিকিউ+ (LGBTQ+) ও ট্রান্সজেন্ডার মতাদর্শ” ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মার্কিন সিনেটের জুডিশিয়ারি সাব-কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ শুনানিতে মিসৌরির রিপাবলিকান সিনেটর জোশ হলি (Josh Hawley) নেটফ্লিক্সের সহ-প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (Co-CEO) টেড সারান্দোসকে (Ted Sarandos) এ বিষয়ে সরাসরি ও কঠোর জেরার মুখোমুখি করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সম্প্রতি এই শুনানির ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্বজুড়ে ওটিটি কনটেন্ট সেন্সরশিপ এবং শিশুদের মানসিক বিকাশ নিয়ে নতুন করে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

আমি আমার সন্তানদের নেটফ্লিক্স দেখতে দিতে পারি না”

মূলত নেটফ্লিক্স এবং ওয়ার্নার ব্রোস ডিসকভারি (Warner Bros. Discovery)-এর মধ্যকার একটি প্রস্তাবিত মার্জার (একত্রীকরণ) ও ব্যবসায়িক একচেটিয়া প্রভাব নিয়ে মার্কিন সিনেটে এই শুনানির আয়োজন করা হয়। কিন্তু শুনানির এক পর্যায়ে সিনেটর জোশ হলি শিশুদের ওপর নেটফ্লিক্সের কনটেন্টের সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক প্রভাবের বিষয়টি সামনে নিয়ে আসেন।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় মিডিয়া ওয়াচডগ সংস্থা GLAAD (Gay & Lesbian Alliance Against Defamation) এবং বিভিন্ন কনজারভেটিভ পলিসি গ্রুপের বার্ষিক রিপোর্ট অনুযায়ী:

  • মার্কিন সিনেট শুনানিতে উত্থাপিত এবং Concerned Women for America (CWA)-এর জরিপ অনুযায়ী, নেটফ্লিক্সের শিশুদের জন্য তৈরি ‘G-rated’ (সাধারণ দর্শক) এবং ‘TV-Y7’ (৭ বছর+ বয়সীদের জন্য) ক্যাটাগরির প্রায় ৪১% কনটেন্টে কোনো না কোনোভাবে এলজিবিটিকিউ+ বা সমকামী চরিত্র এবং উপাদান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
  • GLAAD-এর ‘Where We Are on TV’ রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বের সমস্ত মূলধারার স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলোর (Netflix, Amazon Prime, Disney+) মধ্যে নেটফ্লিক্সে সবচেয়ে বেশি এলজিবিটিকিউ+ চরিত্রের উপস্থিতি রয়েছে, যা তাদের মোট প্রাইম-টাইম ক্যারেক্টারের প্রায় ১২% থেকে ১৫%

নিজের ব্যক্তিগত উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি শুনানিতে বলেন:

আমি নিজে আগে যাচাই (Preview) না করে আমার তিন সন্তানকে নেটফ্লিক্সের কোনো কনটেন্ট দেখতে দিতে পারি না। কারণ আপনাদের প্ল্যাটফর্মে কী ধরনের কনটেন্ট পুশ করা হচ্ছে, তা নিয়ে অভিভাবক হিসেবে আমার বিন্দুমাত্র আস্থা নেই। আমি চাই না আমার সন্তানদের ওপর তাদের অজান্তেই লিঙ্গ পরিচয় (Gender Identity) বা যৌনতা সংক্রান্ত কোনো সুনির্দিষ্ট এজেন্ডা চাপিয়ে দেওয়া হোক।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, এটি আমেরিকার লাখ লাখ সাধারণ অভিভাবকের সনাতন ও রক্ষণশীল মূল্যবোধের পরিপন্থী এবং একটি সুপরিকল্পিত “ওক এজেন্ডা” (Woke Agenda)-র অংশ।

আমেরিকান কলেজ অব পেডিয়াট্রিশিয়ানস (ACPeds) এবং ব্রিটিশ সরকারের বিখ্যাত কাস রিভিউ” (The Cass Review – 2024/2025)-এর অফিসিয়াল পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কৃত্রিমভাবে লিঙ্গ পরিবর্তন বা এই মতাদর্শের শিকার হওয়া শিশুদের মধ্যে ভয়াবহ ক্ষতিকর প্রভাব দেখা গেছে:

  • মানসিক বিপর্যয় ও বিষণ্ণতা: হরমোন থেরাপি এবং লিঙ্গ পরিবর্তনের অস্ত্রোপচার করিয়েছেন এমন ব্যক্তিদের মধ্যে সাধারণ মানুষের তুলনায় মানসিক বিষণ্ণতা এবং তীব্র একাকীত্বের হার ৩ গুণ বেশি
  • আত্মহত্যার প্রবণতা: The Williams Institute (UCLA) এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের যৌথ জরিপ অনুযায়ী, রূপান্তরকামী (Transgender) তরুণ-তরুণীদের মধ্যে আত্মহত্যার চেষ্টা করার হার অবিশ্বাস্যভাবে ৪১% থেকে ৫০%, যা সাধারণ কিশোর-কিশোরীদের আত্মহত্যার হারের চেয়ে বহুগুণ বেশি। অর্থাৎ, লিঙ্গ পরিবর্তন মানুষকে মানসিক শান্তি দেয় না, বরং আরও বিপর্যস্ত করে।
  • অনুশোচনা ও ফিরে আসার হার (Detransition): সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের রিপোর্টে দেখা গেছে, যারা অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় আবেগের বশে বা মিডিয়ার প্রভাবে পড়ে লিঙ্গ পরিবর্তন করেছিলেন, তাদের মধ্যে ১০% থেকে ১৫% তরুণ পরবর্তীতে তীব্র অনুশোচনা প্রকাশ করে আবার তাদের আসল প্রাকৃতিক লিঙ্গে ফিরে আসার (Detransition) চেষ্টা করছেন।
  • যৌন বিভ্রান্তি ও পরিচয় সংকট (Identity Crisis): মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসকদের শীর্ষস্থানীয় সংগঠন আমেরিকান কলেজ অব পেডিয়াট্রিশিয়ানস’ (ACPeds) তাদের অফিসিয়াল গবেষণায় স্পষ্ট জানিয়েছে যে, শিশুদের লিঙ্গ পরিচয় অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং এটি জৈবিক ও প্রাকৃতিক। কৃত্রিমভাবে মিডিয়া বা কনটেন্টের মাধ্যমে শিশুদের মাথায় “লিঙ্গ পরিবর্তন” বা সমকামিতার ধারণা ঢুকিয়ে দিলে তা তাদের স্বাভাবিক মানসিক বিকাশকে ব্যাহত করে এবং তীব্র পরিচয় সংকটে ভোগায়।
  • অকাল পরিপক্বতা (Hyper-sexualization): শিশুদের কার্টুন বা অ্যানিমেশনে প্রাপ্তবয়স্কদের এজেন্ডা যুক্ত করার ফলে তারা বয়সের আগেই এমন সব বিষয়ে কৌতূহলী হয়ে উঠছে, যা তাদের মানসিক ও সামাজিক আচরণের ভারসাম্য নষ্ট করছে।

নেটফ্লিক্সের আত্মপক্ষ সমর্থন: “আমাদের কোনো রাজনৈতিক এজেন্ডা নেই”

সিনেটর জোশ হলির এই তীব্র আক্রমণের জবাবে নেটফ্লিক্সের কো-সিইও টেড সারান্দোস পরিসংখ্যানটিকে সম্পূর্ণ “অসত্য” বলে প্রত্যাখ্যান করেন। সারান্দোস দৃঢ়তার সাথে বলেন:

  • আদর্শিক নিরপেক্ষতা: নেটফ্লিক্সের কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা আদর্শিক এজেন্ডা নেই। বিশ্বজুড়ে তাদের কোটি কোটি দর্শক রয়েছে এবং তারা বিভিন্ন রুচি ও বৈচিত্র্যের মানুষের কথা মাথায় রেখে গল্প তৈরি করেন।
  • প্যারেন্টাল কন্ট্রোল (অভিভাবকীয় নিয়ন্ত্রণ): অভিভাবকদের জন্য নেটফ্লিক্সে অত্যন্ত আধুনিক ‘প্যারেন্টাল কন্ট্রোল’ টুলস রয়েছে। এর মাধ্যমে যেকোনো পরিবার সহজেই নির্ধারণ করতে পারে যে তাদের সন্তান কী দেখবে আর কী দেখবে না।
  • বৈচিত্র্যের প্রতিফলন: তারা কেবল আধুনিক ও বৈচিত্র্যময় সমাজকে পর্দায় ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেন, কোনো নির্দিষ্ট মতবাদ কারও ওপর চাপিয়ে দেওয়ার জন্য নয়।

বিশ্বব্যাপী আইনি পদক্ষেপ ও রাষ্ট্রীয় নিষেধাজ্ঞা

১. হাঙ্গেরির শিশু সুরক্ষা আইন (Anti-LGBTQ+ Law)

প্রেক্ষাপট ও আইন: ২০২১ সালের ১৫ জুন হাঙ্গেরির পার্লামেন্টে “Act LXXIX of 2021” (যা মূলত চাইল্ড প্রোটেকশন অ্যাক্ট বা শিশু সুরক্ষা আইন হিসেবে পরিচিত) পাস করা হয়। এই আইনের মূল উদ্দেশ্য ছিল অপ্রাপ্তবয়স্কদের (১৮ বছরের কম বয়সী) মানসিক ও নৈতিক বিকাশ রক্ষা করা।

আইনি ধারা: এই আইনের অধীনে বিদ্যালয়, পাঠ্যপুস্তক, বিজ্ঞাপন এবং শিশুদের জন্য তৈরি গণমাধ্যম বা ওটিটি (OTT) প্ল্যাটফর্মে সমকামিতা, লিঙ্গ পরিবর্তন (Gender Change) বা জন্মগত লিঙ্গের বাইরে কোনো ধারণার প্রদর্শন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়। এমনকি শিশুদের জন্য ক্ষতিকর এমন বই বা কনটেন্ট স্কুলের ২০০ মিটারের মধ্যে বিক্রি করা এবং সাধারণ দোকানে প্লাস্টিক ফয়েল ছাড়া উন্মুক্ত রাখা নিষিদ্ধ। নেটফ্লিক্সসহ সকল বৈশ্বিক স্ট্রিমিং সার্ভিসকে হাঙ্গেরিতে এই আইন মেনে কনটেন্ট ফিল্টারিং করতে হয়।

রেফারেন্স (References):

  • বিবিসি নিউজ (BBC): Hungary passes law banning LGBT content in schools or kids’ TV (June 2021).
  • উইকিপিডিয়া অফিশিয়াল রেকর্ড: Act LXXIX of 2021 on taking more severe action against paedophile offenders and amending certain acts for the protection of children (Hungarian anti-LGBTQ law).

২. রাশিয়ার কঠোর নিষেধাজ্ঞা (LGBTQ+ Propaganda Ban)

প্রেক্ষাপট ও আইন: রাশিয়া ২০১৩ সালে প্রথম শিশুদের জন্য সমকামী প্রচারণামূলক কনটেন্ট নিষিদ্ধ করেছিল। পরবর্তীতে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই আইনকে আরও সম্প্রসারিত করে “Anti-LGBTQ+ Propaganda Law” পাস করেন, যা সব বয়সীদের ক্ষেত্রেই এই মতাদর্শের প্রচার নিষিদ্ধ করে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের সর্বশেষ জুডিশিয়াল আপডেট অনুযায়ী, আইনটি ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর অত্যন্ত কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে।

আইনি ধারা ও জরিমানা: রাশিয়ার প্রশাসনিক অপরাধ আইনের ধারা ৬.২১ (Article 6.21) অনুযায়ী, নেটফ্লিক্স, কাইনোপইস্ক (Kinopoisk), উইঙ্ক (Wink)-এর মতো অনলাইন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলোতে শিশুদের জন্য তৈরি কনটেন্টে “অপ্রাকৃতিক যৌন সম্পর্ক” বা “ট্রান্সজেন্ডার মতাদর্শের” সামান্যতম উপস্থিতি দেখা গেলে বা বয়স ভিত্তিক সঠিক রেটিং (18+) না থাকলে বড় অঙ্কের প্রশাসনিক জরিমানা করা হয়। এই আইনের অধীনে কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সর্বোচ্চ ১ থেকে ৫ মিলিয়ন রুবল (কোটি টাকা সমমূল্যের) জরিমানা এবং আইন অমান্য করলে সাময়িকভাবে বা স্থায়ীভাবে প্ল্যাটফর্ম সম্পূর্ণ ব্লক বা নিষিদ্ধ করার আইনি বিধান রয়েছে।

রেফারেন্স (References):

  • দ্য মস্কো টাইমস (The Moscow Times – January 2026): Moscow Court Charges Top Streaming Executives With LGBTQ+ ‘Propaganda’ over online streaming content.
  • রয়টার্স ও দ্য গার্ডিয়ান (Reuters / The Guardian): Russia expands ban on ‘LGBT propaganda’ to total restriction on media and streaming services.

৩. মধ্যপ্রাচ্য ও জিসিসি (GCC) দেশগুলোর আলটিমেটাম

প্রেক্ষাপট ও আইনি পদক্ষেপ: ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা GCC (Gulf Cooperation Council)—যার অন্তর্ভুক্ত দেশগুলো হলো সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE), কাতার, কুয়েত, বাহরাইন এবং ওমান—তাদের ইলেকট্রনিক মিডিয়া কমিটির মাধ্যমে নেটফ্লিক্সকে একটি সরাসরি যৌথ আলটিমেটাম জারি করে।

আইনি ধারা ও যৌথ বিবৃতি: সৌদি আরবের অডিও-ভিজ্যুয়াল মিডিয়া কমিশন (GCAM) এবং জিসিসি-র যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, নেটফ্লিক্স তাদের প্ল্যাটফর্মে (বিশেষ করে শিশুদের জন্য তৈরি অ্যানিমেশন ও কার্টুন সিরিজে) এমন কিছু কনটেন্ট প্রচার করছে যা সরাসরি ইসলামিক মূল্যবোধ, সমাজ ব্যবস্থা এবং পারিবারিক কাঠামোর পরিপন্থী। উদাহরণস্বরূপ, নেটফ্লিক্সে সম্প্রচারিত শিশুদের অ্যানিমেশন শো ‘Jurassic World: Camp Cretaceous’-এ সমকামী দৃশ্য প্রদর্শনের তীব্র বিরোধিতা করা হয়। জিসিসি সাফ জানিয়ে দেয়, শিশুদের মনস্তত্ত্বের ক্ষতি করে এমন কনটেন্ট অবিলম্বে সরিয়ে না নিলে তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ আইনের অধীনে নেটফ্লিক্সের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সম্প্রচার ব্লক করে দেওয়া হবে।

রেফারেন্স (References):

  • আল জাজিরা অফিসিয়াল রিপোর্ট (Al Jazeera): Gulf nations demand Netflix remove ‘offensive’ content violating Islamic and societal values (September 2022).
  • দ্য গার্ডিয়ান (The Guardian): Six Gulf states warn Netflix over content violating ‘Islamic values’ and children programming.

সচেতনতা ও সতর্কতা: অভিভাবকদের করণীয়

মার্কিন সিনেটে সম্প্রতি সিনেটর জোশ হলির মতো জনপ্রতিনিধিরা যেভাবে নিজেদের সন্তানদের সুরক্ষায় নেটফ্লিক্স বর্জন বা কঠোর স্ক্রিনিংয়ের কথা বলেছেন, তা বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি অভিভাবককে সচেতন করেছে। শিশুদের সুরক্ষায় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ:

সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা বা সীমিতকরণ: শিশুদের ডিভাইস থেকে নেটফ্লিক্স বা অনিয়ন্ত্রিত ওটিটি অ্যাপস সম্পূর্ণ সরিয়ে নেওয়া অথবা স্ক্রিন টাইম কঠোরভাবে সীমিত করা।

প্যারেন্টাল কন্ট্রোল (Parental Control) ব্যবহার: যদি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতেই হয়, তবে অভিভাবকীয় নিয়ন্ত্রণ লক ব্যবহার করে ‘G’ বা ‘TV-Y7’ রেটিংয়ের কনটেন্টও আগে নিজে পরীক্ষা (Preview) করে তারপর শিশুকে দেখতে দেওয়া।

বিকল্প এবং স্বাস্থ্যকর বিনোদন: শিশুদের ডিভাইস-নির্ভরতা কমিয়ে মাঠের খেলাধুলা, বই পড়া এবং পারিবারিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ শিক্ষা দেয় এমন কনটেন্টে অভ্যস্ত করা।

মুসলিম সমাজের জন্য ক্ষতিকর দিক: ঈমান ও সংস্কৃতির বিনাশ

ইসলামী শরিয়াহ এবং মুসলিম সমাজের জন্য এই এজেন্ডাটি একটি চূড়ান্ত রেড লাইন বা সীমালঙ্ঘন। এটি মুসলিম উম্মাহর জন্য দ্বিগুণ ক্ষতিকর:

  • পবিত্র কুরআন এবং সুন্নাহর স্পষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী, মানবজাতিকে পুরুষ ও নারী—এই দুই জোড়ায় সৃষ্টি করা হয়েছে। হযরত লুত (আঃ)-এর জাতির ওপর আল্লাহর যে কঠিন আজাব নাজিল হয়েছিল, তার মূল কারণ ছিল এই সমকামিতার মতো চরম অবাধ্যতা। ফলে এই মতাদর্শকে গ্রহণ বা প্রচার করা একজন মুসলিমের ঈমানী অস্তিত্বকে সরাসরি ধ্বংস করে দেয়।
  • মুসলিম সমাজ সবসময় লজ্জাশীলতা, পবিত্রতা এবং নৈতিকতার ওপর প্রতিষ্ঠিত। নেটফ্লিক্সের কার্টুন বা সিরিজে যখন কোমলমতি মুসলিম শিশুদের সামনে এই বিষয়গুলো স্বাভাবিক (Normalize) হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, তখন তা তাদের মন থেকে পাপের বোধ এবং হায়া (লজ্জা) কেড়ে নেয়। এটি মুসলিম তরুণ প্রজন্মকে তাদের ধর্মীয় সংস্কৃতি থেকে দূরে সরিয়ে পশ্চিমা ‘ওক সংস্কৃতির’ (Woke Culture) দাসে পরিণত করছে।

আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি সুস্থ, স্বাভাবিক এবং নৈতিক সমাজ উপহার দিতে হলে এই কৃত্রিম এজেন্ডার বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। বিনোদন হোক চিত্তবিনোদনের মাধ্যম, সমাজ বা সভ্যতা ধ্বংসের হাতিয়ার নয়।

উপরের অন্যান্য বিষয়গুলোর তথ্যসূত্র ও ভেরিফাইড লিংকসমূহ (References):

১. মার্কিন সিনেট শুনানি ও বক্তব্য: Senator Josh Hawley Official Statement – Hearing on Big Tech and Children’s Programming.

২. সি-স্প্যান অফিসিয়াল ভিডিও ফুটেজ (C-SPAN): C-SPAN Hearing Video – Sen. Josh Hawley Questions Netflix CEO Ted Sarandos

৩. আন্তর্জাতিক মিডিয়া কাভারেজ: ফক্স বিজনেস (Fox Business) এবং দ্য গার্ডিয়ান (The Guardian)-এর মার্কিন সিনেট জুডিশিয়ারি শুনানি বিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদন।

৪. ডিজিটাল ও ফেসবুক সোর্স: তথ্য প্রবাহ পেজে প্রকাশিত মূল ফেসবুক ভিডিও লিংক: [https://www.facebook.com/share/v/1ERgqx2gQA/](https://www.facebook.com/share/v/1ERgqx2gQA/) (সংগৃহীত ও যাচাইকৃত)।

নেটফ্লিক্স কর্তৃপক্ষের প্রতি খোলা চিঠি: বাণিজ্যিক এজেন্ডা থেকে বের হয়ে আসার আহ্বান

প্রিয় নেটফ্লিক্স নীতিনির্ধারক সংস্থা,

বিশ্বজুড়ে আপনাদের কোটি কোটি দর্শক রয়েছে, যার একটি বিশাল অংশ মুসলিম এবং সনাতন পারিবারিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী সাধারণ মানুষ। বিনোদনের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত মানুষের সৃজনশীলতা, মানবিক মূল্যবোধ এবং সুস্থ মনস্তত্ত্বের বিকাশ ঘটানো।

কিন্তু দুঃখজনকভাবে, ডাইভারসিটি (Diversity) বা অন্তর্ভুক্তির নামে শিশুদের কনটেন্টে যেভাবে একপেশে এবং অতি-বিতর্কিত যৌন এজেন্ডা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, তা বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি অভিভাবককে আপনাদের প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে। ব্যবসা এবং বিনোদনকে কোনো নির্দিষ্ট বিতর্কিত মতাদর্শের প্রচারণাস্থল বানানো উচিত নয়।

যদি আপনারা বিশ্ববাজারের এই বিশাল অংশের (বিশেষ করে মুসলিম বিশ্ব ও রক্ষণশীল সমাজ) আস্থা ধরে রাখতে চান, তবে অবিলম্বে শিশুদের কনটেন্ট থেকে এই ক্ষতিকর ও এজেন্ডাভিত্তিক উপাদানগুলো বাদ দিতে হবে। অন্যথায়, বিশ্বজুড়ে যে তীব্র গণবর্জন ও আইনি নিষেধাজ্ঞার মুখে আপনারা পড়ছেন, তা আপনাদের বাণিজ্যিক ও নৈতিক অবস্থানকে পুরোপুরি ধসিয়ে দেবে। সুস্থ ও নিরাপদ বিনোদনে ফিরে আসাই হোক আপনাদের মূল লক্ষ্য।

বিনীত,

আব্দুল আলিম/….

সর্বস্তরের জনগণের পক্ষে,

ঢাকা, বাংলাদেশ।

Comments

comments


Like it? Share with your friends!

0 Comments